আখ - বাংলা রচনা | Bengali Essay on Sugarcane | Bangla Paragraph Writing for Class 1-2-3-4-5-6

সূচনা : আখ হল ঘাসজাতীয় উদ্ভিদ। এই উদ্ভিদ হল আমাদের মিষ্টির যোগানদার, তাই এর উপযোগিতা
অনেক। 

কোথায়, কী ভাবে চাষ হয় : আখ উৎপাদনে ভারত পৃথিবীতে বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছে। উত্তরপ্রদেশ এবং বিহার ভারতের এই দুটি রাজ্য আখ উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত। আমাদের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গেও প্রচুর আখ হয়। তবে, গুণমানে উত্তরপ্রদেশের আখ সবার চেয়ে ভালো—যেমন লম্বায় বড়ো,
তেমনি মিষ্টি। আখ চাষের জন্য দরকার দোআঁশ মাটি এবং পর্যাপ্ত জল, তবে গাছের গোড়ায় জল জমলে গাছ মরে যায়। আখের গোড়া কেটে নরম মাটিতে পুঁতে দিলে তা থেকে নতুন আখ গাছ বেরোয়। আখ রোপন করা হয় চৈত্র মাসে, কাটা হয় শীতকালে। কাটার পর আঁটি বেঁধে পাঠানো হয় আখ মাড়াই কলে। কিছু আখ বাজারে বিক্রি হয়। 

উপকারিতা : আখের রস থেকে চিনি ও গুড় তৈরি হয়। এই রস খেতে সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। আখের ছিবড়ে
জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 

উপসংহার : চিনি বা শর্করা আমাদের অতি প্রয়োজনীয় খাদ্য-উপাদান, তাই আখের চাষ যত বেশি হবে।
ততই ভালো।

পাট - বাংলা রচনা | Bengali Essay on Jute | Bangla Paragraph Writing for Class 1-2-3-4-5-6

সূচনা : পাট হল তন্তুজাতীয় একটি প্রয়োজনীয় ফসল। এটি একটি অর্থকরী ফসল—ফসলটি বিদেশে রপ্তানি করে দেশের প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়। 

কোথায়, কীভাবে চাষ হয় : পলিমাটিযুক্ত উর্বর নিচু জমিতে পাট চাষ ভালো হয়। ফাল্গুন-চৈত্র মাসে জমি ভালো করে চষে নিয়ে পাটের বীজ বোনা হয়। উপযুক্ত আলো-জল-বাতাস পেলে পাট গাছ ভালোভাবে বাড়ে। গাছগুলি প্রায় ২ সেমি মোটা ও ৩ মিটার লম্বা হয়। শ্রাবণ-ভাদ্র মাসে গাছগুলি কেটে আঁটি করে বেঁধে এক মাস জলে ভিজিয়ে পচিয়ে নেওয়া হয়। এরপর পচা গাছ থেকে পাট ও কাঠি আলাদা করা হয়। শেষে ভিজে পাট ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে নেওয়া হয়। আমাদের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ, অসম ও ওড়িশায় প্রচুর পাট উৎপন্ন হয়। 

উপকারিতা : পাট থেকে থলে, কার্পেট, দড়ি, চট, জামা ইত্যাদি তৈরি হয়। পাটকাঠি জ্বালানি হিসেবে
ব্যবহৃত হয়। 

উপসংহার প্লাস্টিক আবিষ্কৃত হওয়ায় এবং প্লাস্টিকের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় পাটজাত দ্রব্যের ব্যবহার অনেক কমে গেছে। চাষিদের মধ্যেও তাই পাট চাষে তেমন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু পাটজাত জিনিসগুলি পরিবেশ-সহায়ক, তাই এদের ব্যবহার যাতে বাড়ে, সেদিকে নজর দিতে হবে।

প্রজাপতি - বাংলা রচনা | Bengali Essay on Butterfly | Bangla Paragraph Writing for Class 1-2-3-4-5-6

সূচনা : প্রকৃতির চেয়ে বড়ো শিল্পী পৃথিবীতে আর নেই। তাঁর শিল্প-সৃষ্টি যে কত সুন্দর আর কত নিখুঁত,
প্রজাপতি নামক পতঙ্গটির দিকে তাকালেই আমরা তা বুঝতে পারি। প্রকৃতি সত্যিই লীলারঙ্গী, তার লীলা বোঝা ভার। যে প্রজাপতির রূপের প্রশংসায় আমরা পঞ্চমুখ, সে তার জীবনের চারটি স্তরের তিনটি স্তর পর্যন্ত থাকে নিতান্তই কুৎসিত—তারপর চতুর্থ স্তরে সে কেমন করে অমন রূপময় হয়ে ওঠে, তার ব্যাখ্যা দেওয়া মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। মানুষ কত সাজগোজ করে সুন্দর হবার চেষ্টা করে, কিন্তু প্রজাপতির
মাধ্যমে প্রকৃতি কুৎসিতকে সুন্দর করার যে নিদর্শন রাখেন, তা পৃথিবীর সেরা রূপচর্চাকরেরও বুদ্ধির বাইরে। 

আকৃতি : প্রজাপতির শরীরের তিনটি অংশ : মাথা, বুক ও পেট। এটি পতঙ্গ শ্রেণির প্রাণী। অন্যান্য পতঙ্গের মতোই এরও ছটি পা। পাগুলি প্রজাপতির বুক থেকে বেরোয়। প্রজাপতির দুটি ডানা আছে। ডানাগুলি বর্ণময়। ডানাদুটির সাহায্যেই এরা এক ফুল থেকে অন্য ফুলে উড়ে বেড়ায়। 

বৈশিষ্ট্য ও খাদ্য : প্রজাপতির জীবনের চারটি স্তর : প্রথম স্তরে এরা থাকে ডিম অবস্থায়। দ্বিতীয় স্তরে ডিম পরিবর্তিত হয় শূককীট বা শুঁয়োপোকায়। শুঁয়োপোকাগুলি দেখতে বিশ্রি, এদের সারা গায়ে থাকে রোঁয়া। এরা গাছের পাতা খেয়ে জীবনধারণ করে। তৃতীয় স্তরে শুককীট পরিবর্তিত হয় মূককীটে। গোটা মুককীটটি একটি খোলসে ঢাকা থাকে। এই খোলসের নীচে মূককীটের হয় নানা পরিবর্তন। অবশেষে একদিন খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসে বর্ণময় প্রজাপতি। তখন সে ফুলে ফুলে মধু খেয়ে বেড়ায়। 

উপসংহার : প্রজাপতি প্রকৃতির অনবদ্য সৃষ্টি। রঙিন ফুলের উপরে সে যখন তার বহুবর্ণরঞ্জিত শরীর ও
ডানাদুটি মেলে বসে, তখনকার সৌন্দর্যের তুলনা মেলা ভার। অবশ্য, কেবল প্রকৃতির শোভা বৃদ্ধি করতেই নয়, সৃষ্টির কাজেও প্রজাপতির অবদান রয়েছে। প্রজাপতি যখন কোনো ফুলের উপরে বসে, তখন তার গায়ে-পায়ে ওই ফুলের রেণুগুলি লেগে যায়। এরপর যখন সে আর একটি ফুলের উপরে বসে, তখন ওই রেণুগুলির দ্বারা পরাগমিলন হয় এবং এভাবে প্রজাপতি গাছের বংশবিস্তারে সাহায্য করে।

সিংহ - বাংলা রচনা | Bengali Essay on Lion | Bangla Paragraph Writing for Class 1-2-3-4-5-6

সূচনা : বাঘ আর সিংহ—বনের দুটি সৌন্দর্যময় প্রাণী। বনের রাজা দুই প্রাণীই, দুয়েরই আচরণ রাজসিক। তবু ‘পশুদের রাজা’ বলা হয় সিংহকে, বাঘকে নয়। কারণ সিংহের আচরণই সত্যিকারের রাজার মতো—সে অকারণে বনের কোনো প্রাণীকে হত্যা করে না। 

আকৃতিঃ সিংহ বন্য পশু। উচ্চতায় সে বাঘেরই মতো, যদিও দৈর্ঘ্যে বাঘের চেয়ে একটু ছোটো। সিংহের মাথাটি বড়ো, চোখদুটি সর্বদা জ্বলজ্বল করে। মুখের ভেতরে তীক্ষ্ণ দাঁত আছে, থাবাগুলি অত্যন্ত শক্তিশালী। সিংহের ঘাড়ে সুন্দর কেশর দেখা যায়, কিন্তু সিংহীর কেশর নেই। 

প্রকৃতি : সিংহ অত্যন্ত সাহসী, বলবান এবং নির্ভীক প্রাণী। এরা গভীর বনে বাস করে। এরা মাংসাশী প্রাণী
হলেও দুর্বল এবং ছোটো প্রাণীদের কখনও মারে না। খিদে পেলে তবেই এরা পশু হত্যা করে, নইলে নয়।
এতেই বোঝা যায়, মাংসাশী হলেও সিংহ নিষ্ঠুর নয়। 

উপসংহার : আমাদের দুর্ভাগ্য, নির্বিচার পশুহত্যার ফলে পৃথিবীতে সিংহের সংখ্যা খুব কমে গেছে।

উট - বাংলা রচনা | Bengali Essay on Camel | Bangla Paragraph Writing for Class 1-2-3-4-5-6

সূচনা : রূপ নয়, গুণই যে আসল কথা, মরুভূমিতে উটের আদর দেখলে তা বেশ বোঝা যায়। উট হল মরুভূমির জাহাজ, তাকে বাদ দিয়ে ধূ ধূ বালির রাজ্য মরুভূমিতে কোনো কাজ করা সম্ভব নয়। উর্বর সমতলভূমিতে উটের উপকারিতা আমরা বুঝতে পারি না, কিন্তু মরুভূমির মানুষের কাছে উটের বিকল্প নেই। 
আকৃতি : উট একটি চতুষ্পদ গৃহপালিত তৃণভোজী প্রাণী। এর শরীরমরুভূমিতে বালির মধ্যে চলার এবং প্রচণ্ড জলকষ্টের মধ্যে চলাফেরা করার উপযোগী। এদের পায়ের পাতা এবং পায়ের তলা এমনভাবে তৈরি যে বালির উপর দিয়ে চললেও তার পা ডুবে যায় না। এদের পাকস্থলিতে দুটি কক্ষ থাকে। তার একটি সে কোথাও যাবার আগে জলপূর্ণ করে নেয়, তাই পথে জলকষ্ট ভোগ করে না। উটের পিঠে যে কুঁজটি থাকে, তার ভেতরে একটি জিনিস থাকে, তা প্রয়োজনের সময়ে হয় উটের খাদ্য। 

প্রকৃতি : উট অত্যন্ত কষ্টসহিয়ু প্রাণী। মরুভূমিতে যে কাঁটা গাছ ও খেজুর জন্মায়, তা খেয়ে সে বাঁচে।
মরুভূমিতে কোথায় জল আছে, কখন বালির ঝড় উঠবে, তা সে বুঝতে পারে। এইজন্য মরুভূমিতে সে মানুষের সবচেয়ে বিশ্বস্ত সঙ্গী। 

উপসংহার : মানুষ বহন ও মালপত্র পরিবহন — মরুভূমিতে দুটি কাজই করে উট। তাকে বাদ দিয়ে
মরুভূমির মতো বিপর্যয়কর প্রাকৃতিক পরিবেশে মানুষের বাস করা সম্ভব নয়।

হাতি - বাংলা রচনা | Bengali Essay on Elephant | Bangla Paragraph Writing for Class 1-2-3-4-5-6

সূচনাঃ হাতি হল আকারে সবচেয়ে বড়ো প্রাণী। এদের গায়েও অসম্ভব জোর। তাই বনে বাঘের মতো
হিংস্র প্রাণীও হাতিকে এড়িয়ে চলে।

আকৃতি: হাতির দেহটি বিরাট। থামের মতো মোটা মোটা চারটি পা এবং একটি লম্বা শুঁড় আছে এদের। পুরুষ হাতির শুঁড়ের দু পাশ দিয়ে দুটি বড়ো বড়ো দাঁত বেরোয়। এদের শরীরের তুলনায় লেজটি বেশ ছোটো। 

প্রকৃতি : হাতি বন্য পশু, এরা গভীর বনে দল বেঁধে থাকে এবং দল বেঁধেই চলাফেরা করে। এরা অসম্ভব জেদি, যা করবে মনে করে তা করে ছাড়ে। তবে একবার পোষ মানলে এরা খুব বাধ্যের হয়। এরা তৃণভোজী
হলেও প্রচুর খায়। দিনে ১৫০ কেজির মতো খাবার খায়। গাছের পাতা এবং কলাগাছ এদের প্রিয় খাদ্য।
 
উপকারিতা : হাতিকে দিয়ে আগে মাল বহন করানো হত, যুদ্ধ করতেও হাতিকে লাগানো হত। এখন
আর এসব কাজ হাতিকে দিয়ে করানো হয় না।

উপসংহারঃ মানুষ বন কেটে ফেলায় হাতির থাকার জায়গায় এবং খাদ্যে টান পড়ছে—এদিকে নজর দিতে হবে।

ঘোড়া - বাংলা রচনা | Bengali Essay on Horse | Bangla Paragraph Writing for Class 1-2-3-4-5-6

সূচনা : ইঞ্জিনবসানো দ্রুতগামী গাড়ি যতদিন রাস্তায় না নেমেছে, ততদিন পর্যন্ত মানুষের পরম বিশ্বস্ত বাহন ছিল ঘোড়া। ঘোড়ার পিঠে চেপে সে খুব তাড়াতাড়ি, বিনা পরিশ্রমে অনেক দূর পথ অতিক্রম করেছে।

আকৃতি : ঘোড়া হল গৃহপালিত স্তন্যপায়ী চতুষ্পদ প্রাণী। লম্বাটে মুখের এই প্রাণীটির দুটি কান, দুটি চোখ ও একটি গোছা চুলবিশিষ্ট লেজ আছে। এদের ঘাড়ের উপর থাকে কয়েক গোছা লোম, পায়ের নীচে থাকে শক্ত খুর। 

প্রকৃতি ও উপকারিতা : ঘোড়া নিরীহ, অত্যন্ত সাহসী, পরিশ্রমী এবং প্রভুভক্ত প্রাণী। মনিবের কোনো বিপদ দেখলে নিজের জীবন দিয়েও প্রভুর প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করে। মেবারের রানা প্রতাপসিংহের ঘোড়া চৈতক হলদিঘাটের যুদ্ধে কীভাবে বিপন্ন মনিবের প্রাণ বাঁচিয়েছিল, ইতিহাস বইয়ে তা লেখা আছে। ঘোড়া অত্যন্ত দ্রুতগামী বলে ঘোড়ার পিঠে চাপিয়ে এবং ঘোড়াকে দিয়ে গাড়ি টানিয়ে মানুষ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় গেছে। ঘোড়া মাল বহনে পটু, পিঠে মাল নিয়ে পাহাড়েও উঠতে পারে। এখনও পাহাড়ি অঞ্চলে ঘোড়ার খুব আদর। আগে সংবাদ আদানপ্রদান এবং চিঠিপত্র পাঠানোর কাজেও ঘোড়াকে ব্যবহার করা হত।

উপসংহার : তিন চাকা এবং চার চাকার দ্রুতগামী ইঞ্জিনবসানো গাড়ি আবিষ্কারের ফলে মানুষের কাছে
এখন ঘোড়ার আদর অনেক কমেছে। কিন্তু ঘোড়া এখনও আমাদের প্রিয় পশু। অতি দ্রুতগামী এই পশুটি আমাদের সত্যিকারের বন্ধু।