খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের শ্রেষ্ঠ উৎসব বড়োদিন। ২৫ ডিসেম্বর ঈশ্বরপুত্র যিশুর জন্মদিনে
এই উৎসব পালিত হয়। খ্রিস্টান ধর্মের উপাসনালয়কে
গির্জা বলে। গির্জাগুলো আলোয় সাজানো হয়।
খ্রিস্টানরা নতুন পোশাক পরে গির্জায় যান
উপাসনায় যোগ দিতে। বাইবেল পাঠ ও প্রার্থনা
সঙ্গীত হয়। বাড়ির সামনে খ্রিস্টমাস ট্রি সাজানো
হয়। ছোটোদের মনে এই বিশ্বাস আছে যে, বুড়ো
সান্তাক্লজ তাদের জন্য উপহার রেখে যাবেন। বড়ো
দিনের প্রিয় খাবার কেক। এই সময় দোকানে দোকানে
কেক কেনার জন্য মানুষের ভিড় জমে ওঠে। বড়োদিনও এখন বাংলার বারোমাসে তেরো
পার্বনের অন্যতম এক উৎসব।
Bengali Essay | Bangla Essay
ইদ - বাংলা রচনা | Bengali Essay on Eid | Bangla Paragraph Writing for Class 1-2-3-4-5-6
মুসলমান সম্প্রদায়ের শ্রেষ্ঠ উৎসব হল ইঁদ। ইদ বছরে দুবার পালন করা হয়—
ইদ-উল-ফিতর ও ইদুজ্জোহা। প্রথম ইদ হল সংযমের উৎসব। ধর্মপ্রাণ মুসমলানেরা
একমাস উপবাস করেন। একে বলে ‘রোজা’। যে
মাসে এই রোজা পালিত হয় সেই মাসের নাম
রমজান মাস। তারপর রমজান মাস শেষ হলে
প্রতিপদের চাঁদ দেখে ‘ইদ’ পালন করা হয়।
ওই দিন মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষরা নতুন
জামা-কাপড় পরে মসজিদে সমবেত হয়ে নামাজ
পড়েন এবং পরস্পরকে আলিঙ্গনের মাধ্যমে
শুভেচ্ছা জানান। বিভিন্ন জায়গায় ইদ উপলক্ষে মেলা বসে। দূর দূরান্তের মানুষ এই সময়
ঘরে ফিরে আসে। ইদ মিলনের উৎসব। সব ভেদাভেদ ভুলে মানুষ এই দিনটিতে আনন্দে
মেতে ওঠে।
চা - বাংলা রচনা | Bengali Essay on Tea | Bangla Paragraph Writing for Class 1-2-3-4-5-6
সকালে খবরের কাগজের সঙ্গে বা বাড়িতে অতিথি আপ্যায়নের অন্যতম প্রধান
উপকরণই হল চা। সাধারণত পাহাড়ের ঢালু জমিতে যেখানে প্রচুর বৃষ্টি হয় কিন্তু জল
দাঁড়ায় না, সেইসব জায়গায় চা ভালো উৎপন্ন হয়। তাই দার্জিলিং, অসম, নীলগিরির
পার্বত্য অঞ্চলে চা বেশি উৎপন্ন হয়। চা গাছ গুল্ম
জাতীয় উদ্ভিদ। এরা প্রায় ১৫ থেকে ২০ বছর
বাঁচে। চা গাছের নতুন পাতা হলে সেই পাতা
তুলে কারখানায় শুকিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে
চা উৎপাদন হয়। চিন, জাপান, শ্রীলঙ্কা,
পাকিস্তানেও চায়ের চাষ হয়। তবে ভারতের চা
খুব উৎকৃষ্ট মানের। চা পান করলে একদিকে যেমন
শরীর ভালো থাকে, আবার অতিরিক্ত চা পানে তেমনি শরীর খারাপ হয়।
বিড়াল - বাংলা রচনা | Bengali Essay on The Cat | Bangla Paragraph Writing for Class 1-2-3-4-5-6
বিড়াল অতি পরিচিত গৃহপালিত প্রাণী, অনেকটা বাঘের মতো দেখতে বলে বিড়ালকে
বলা হয় ‘বাঘের মাসি।' অনেকে শখ করে বাড়িতে বিড়াল পোষে। বিড়াল সাদা, কালো,
খয়েরি ইত্যাদি নানা রঙের হয়। এদের চার পায়ের নীচে
নরম মাংস পিন্ড দ্বারা গঠিত প্যাড থাকে। এই জন্য
বিড়াল হাঁটলে কোনো শব্দ হয় না। এদের পায়ে
তীক্ষ্ণ নখ থাকে। নাকের দুদিকে কয়েক গোছা লম্বা
গোঁফ দেখা যায়। চোখ দুটোও বেশ গোলাকার।
বিড়াল মাছ, মাংস, ডিম, দুধ বেশি পছন্দ করে। সুযোগ পেলে এরা ইঁদুর শিকার করে। মানুষের আদর ভালোবাসে। মাছ, মংসের গন্ধ পেলে
মিউমিউ করে ডাকে। এরা অন্ধকারে দেখতে পায়। তবে কুকুরের মতো প্রভুভক্ত নয়।
মঙ্গলে রোবট-যান - বাংলা রচনা | Bengali Essay on Robots on Mars | Bangla Paragraph Writing for Class 1-2-3-4-5-6
সূচনাঃ সৌরজগতের আটটি গ্রহের মধ্যে সূর্য থেকে দূরত্ব অনুসারে মঙ্গল হল চতুর্থ গ্রহ। সূর্যের সবচেয়ে
কাছে হল বুধ, তার শুক্র, তারপর আমাদের পৃথিবী, এরপর মঙ্গলের অবস্থান।
মঙ্গলের বৈশিষ্ট্য ঃ সূর্য থেকে মঙ্গলের গড় দূরত্ব প্রায় ২২ কোটি ৬০ লক্ষ কিমি.। এর দুটি
উপগ্রহ—ফোবোস এবং ডিমোস। খালি চোখে মঙ্গলকে লাল রঙের দেখায়, তাই এর নাম ‘লাল গ্রহ'। সূর্যের
চারদিকে একবার ঘুরে আসতে মঙ্গলের সময় লাগে ৬৮৭ দিন। মঙ্গলের দুই মেরু পৃথিবীর মেরুদুটির মত
বরফে ঢাকা। মঙ্গলের মাটি গোলাপি রঙের, মাটির উপরে ছড়ানো রয়েছে ভারি ভারি পাথর।
মঙ্গলে রোবট রোভার বা স্বয়ংক্রিয় চক্রযান ঃ মঙ্গলের মাটি এবং পাথর পরীক্ষা ও বিশ্লেষণ করে
সত্যিই সেখানে জীবনের অস্বিত্ব ছিল বা আছে কিনা, তা নির্ণয়ের লক্ষ্যে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের নাসার বিজ্ঞানীরা
একটি স্বয়ংক্রিয় চক্রযান পাঠিয়েছেন মঙ্গলে। ছ চাকার, প্রায় এক টন ওজনের স্বয়ংক্রিয় ওই যানটির নাম
‘কিউরিয়োসিটি’ (কৌতূহল)। ২০১১ খ্রিঃ ২৬ নভেম্বর আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার উপকণ্ঠে ক্যানাভেরাল
অন্তরীপ থেকে এটিকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। ২৫৪ দিন পরে, ২০১২ খ্রিঃ ৫ আগস্ট শেষ রাতে (ভারতীয়
সময় : সোমবার, ৬ আগস্ট, বেলা ১১ টা ২ মিনিটে) ‘কিউরিয়োসিটি’ মঙ্গলের ‘গেল ক্রেটার' নামক ৫৭৬
কিমি. চওড়া একটি বিরাট গহ্বরে সফলভাবে অবতরণ করে তার নির্দিষ্ট কাজ শুরু করে দেয়। এত ভারি একটা
যানকে মঙ্গলের বুকে নামানো ছিল একট রাট সমস্যা। নীরা সেই সমস্যাকে অতিক্রম করেন ৫১ ফুট
চওড়া একটি প্যারাসুটের সাহায্যে প্রথমে এর গতিবেগকে কমিয়ে, তারপর ক্লেন ও দড়ির সাহায্যে ৭ মিনিট
ধরে ধীরে ধীরে মঙ্গলের মাটিতে যানটিকে নামিয়ে দিয়ে। সঙ্গে সঙ্গেই যন্ত্রযান পৃথিবীতে বিজ্ঞানীদের জানিয়ে
দেয়, সে সফলভাবে মঙ্গলে অবতরণ করেছে। যন্ত্রযানটি ৯৮ সপ্তাহ মঙ্গলে থেকে নিজের কাজ করে এবং
মঙ্গল সম্বন্ধে পৃথিবীতে নানা তথ্য জানায়।
উপসংহার : বিরাট যন্ত্রযানটির মঙ্গলে অবতরণ বিজ্ঞানের জয়যাত্রার একটি অত্যাশ্চর্য নিদর্শন। বিজ্ঞানীরা মঙ্গলে রোবঢ়-যান
লন্ডন অলিম্পিক, ২০১২ - বাংলা রচনা | Bengali Essay on London Olympics, 2012 | Bangla Paragraph Writing for Class 1-2-3-4-5-6
সূচনাঃ অলিম্পিক হল বিশ্বের সবচেয়ে বড়ো ক্রীড়া প্রতিযোগিতার
আসর। প্রতি চার বছর অন্তর বিশ্বের একটি উল্লেখযোগ্য শহরে এই
প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এবারের ৩০-তম অলিম্পিকের আসর
বসেছিল গ্রেট ব্রিটেনের রাজধানী লন্ডন শহরে।
এই অলিম্পিকের বৈশিষ্ট্য : লন্ডন অলিম্পিকে অংশগ্রহণ
করেছিলেন পৃথিবীর ২০২ টি দেশের ২০ হাজারের বেশি ক্রীড়াবিদ।
পনেরো দিন ধরে নানা বিষয়ে প্রতিযোগিতা হয়েছিল এই ক্রীড়ানুষ্ঠানে।
ফলাফল এবং উল্লেখযোগ্য প্রতিযোগী : সোনা, রুপো এবং ব্রোঞ্জ মিলিয়ে মোট ১০৪ টি পদক পেয়ে
আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র হয় সেরা প্রতিযোগী দেশ। মোট ৮৭ টি পদক পেয়ে চিন হয় দ্বিতীয় স্থানাধিকারী এবং ৬৫
টি পদক পেয়ে আয়োজক দেশ গ্রেট ব্রিটেন হয় তৃতীয় স্থানাধিকারী। আমেরিকান সাঁতারু মাইকেল ফেলপস
একাই ৪ টি সোনা ও ২ টি রৌপ্য পদক জিতে এই অলিম্পিকের শ্রেষ্ঠ ক্রীড়াবিদ হন। ১০০মি. ও ২০০ মি.
দৌড় এবং ৪ × ১০০ রিলে রেসে সোনা জিতে জামাইকার উসেইন বোলট ‘বিশ্বের দ্রুতগামী মানুষের’ শিরোপা
পান। এঁরা ছাড়া এই অলিম্পিকে অসাধারণ ক্রীড়াশৈলী দেখিয়েছিলেন আমেরিকার মহিলা সাঁতারু মিসি
ফ্রাঙ্কলিন, দুই চিনা মহিলা সাঁতারু উ সিন্ন্জিয়া ও ইয়ে সিওয়েন, গ্রেট ব্রিটেনের মাঝারি পাল্লার দৌড়বীর মো
ফারা, সাইক্লিস্ট ক্রিস হোয় ও টেনিস খেলোয়াড় অ্যান্ডি মারে এবং কেনিয়ার দৌড়বীর ডেভিড রুদিসা।
৩০-তম অলিম্পিকে ভারত : ২ টি রুপো এবং ৪ টি ব্রোঞ্জ পদক পেয়ে এই অলিম্পিকে ভারতের স্থান
হয়েছে ৫৫-তম। দুটি রুপো জিতেছেন কুস্তিতে সুশীল কুমার এবং সুটিং-এ বিজয় কুমার। ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছেন
ব্যাডমিন্টনে সায়না নেহাল, বক্সিং-এ মেরি কম, সুটিং-এ গগন নারাং এবং কুস্তিতে যোগেশ্বর দত্ত। এ ছাড়া অন্য
সব বিভাগে আমাদের ফলাফল হতাশাব্যঞ্জক।
উপসংহার : ২০১৬ খ্রিঃ ব্রাজিলের রাজধানী রায়ো-ডি-জেনিরোতে অনুষ্ঠিত হবে ৩১-তম অলিম্পিক।
এতে ভালো ফল করতে হলে ভারতকে এখন থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে।
বায়ু দূষণ - বাংলা রচনা | Bengali Essay on Air pollution | Bangla Paragraph Writing for Class 1-2-3-4-5-6
সূচনা : জলের মতো বায়ুও হল আমাদের জীবন। জল ছাড়া তবু খানিকটা সময় আমরা বাঁচতে পারি,
কিন্তু বাতাস ছাড়া এক মুহূর্ত আমরা বাঁচতে পারি না। বাতাসের মধ্যে যে অক্সিজেন আছে, তা মানুষ এবং
উপাদান কার্বন ডাই-অক্সাইডের।
প্রাণীদের বাঁচার অপরিহার্য উপাদান। আবার উদ্ভিদকুলের জীবনধারণের জন্য প্রয়োজন বাতাসের অন্যতম
বায়ু-দূষণ ।
কীভাবে ঘটে : প্রাণীরা নিঃশ্বাসের মাধ্যমে বাতাসের
অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং প্রশ্বাসের মাধ্যমে কার্বন ডাই-অক্সাইড ত্যাগ
করে। উদ্ভিদরা সেই কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে এবং অক্সিজেন
ত্যাগ করে—এভাবে উদ্ভিদ ও প্রাণীর বিপরীতধর্মী কাজের ফলে
প্রকৃতিতে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণে একটা সমতা
বজায় থাকে। কিন্তু মানুষ নির্বিচারে বন কেটে গাছপালা ধ্বংস করে
ফেলায় বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বাড়ছে। এর ফলে
পৃথিবী আগের তুলনায় বেশি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, গরম বাড়ছে। অজস্র যানবাহন এবং কলকারখানার ধোঁয়াও
বাতাসকে দূষিত করছে।
বায়ু-দূষণের ফল : বায়ু-দূষণের প্রত্যক্ষ ফল হল তাপমাত্রা বৃদ্ধি। এর ফলে পৃথিবীর সর্বত্র গরম বেড়েছে,
আবহাওয়ার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে, আকস্মিক ঝড়-সাইক্লোন-অতি বৃষ্টি বা খরা দেখা দিচ্ছে। পাহাড়চূড়ার
বরফ গলে যাচ্ছে, এমন কী মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাওয়ায় সমুদ্রের জলতল বেড়ে গিয়ে সমুদ্রতীরবর্তী
অঞ্চলগুলি জলে ডুবে যাবার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। মানুষেরও টিবি, ক্যানসার প্রভৃতি মারণ-ব্যাধিতে আক্রান্ত
হবার সম্ভাবনা বাড়ছে।
উপসংহার : বায়ুদূষণ পৃথিবীর জীবকুলকে অনিবার্য ধ্বংসের দিকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে। এর হাত থেকে
বাঁচার একটিই উপায় : বনসৃজন বা আরও বেশি করে গাছ লাগানো।
Subscribe to:
Posts (Atom)