সূচনা : ছবি মাত্রেই স্থির ও মূক—তার নড়াচড়া করার ও কথা বলার ক্ষমতা নেই। আমাদের এই
চিরাচরিত ধারণাকে ভেঙে দিয়েছে চলচ্চিত্র বা সিনেমা। পর্দার বুকে আলো-ছায়ার খেলায় ছবিকে নাড়াচাড়া
করিয়ে এবং ছবিকে দিয়ে কথা বলিয়ে সিনেমা আশ্চর্য এক মোহময় দুনিয়া সৃষ্টি
করেছে। এই কারণেই চলচ্চিত্র বা ছায়াছবির জনপ্রিয়তা সারা পৃথিবী জুড়ে।
আবিষ্কার ও উপযোগিতা : ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে আমেরিকান বিজ্ঞানী টমাস
আলভা এডিসন সিনেমা প্রদর্শন পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। তবে, প্রথমদিকে
সিনেমা ছিল নির্বাক, ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের পর থেকে কেবলমাত্র সবাক চলচ্চিত্রই
নির্মিত হতে থাকে। এখন দু ধরনের চলচ্চিত্র নির্মিত হয়—তথ্যচিত্র এবং
কাহিনিচিত্র । কাহিনিচিত্র গড়ে ওঠে একটি কাহিনির উপর ভিত্তি করে—এই ধরনের
চলচ্চিত্রই বেশি জনপ্রিয় এবং এগুলি ব্যবসায়িক ভিত্তিতে নির্মিত হয়। তথ্যচিত্র
নির্মিত হয় কোনো একটি প্রামাণ্য ঘটনা বা বিষয়কে কেন্দ্র করে। এগুলি হয়
স্বল্পদৈর্ঘ্যের এবং অ-ব্যবসায়িক। কাহিনিচিত্রগুলি ব্যবসায়িক বলে এতে নাচ-গান প্রভৃতি বিনোদনের
উপকরণগুলি থাকে। স্বাভাবিকভাবেই অল্পবয়সি পড়ুয়াদের উপরে এর প্রভাব পড়ে। তারা পড়াশোনায় মনোযোগ
না দিয়ে সিনেমা দেখতেই বেশি আগ্রহী হয় এবং অভিনেতাদের অনুকরণ করার চেষ্টা করে।
উপসংহার : দু-একটি ক্ষতিকারক দিককে বাদ দিলে আজকের দিনে সিনেমার ব্যাপক প্রভাবকে অস্বীকার
করার উপায় নেই। তাই ছবি-নির্মাতাদেরই উচিত, একে যথাসম্ভব শিক্ষণমুখী করে তোলা।