সূচনা : জলের মতো বায়ুও হল আমাদের জীবন। জল ছাড়া তবু খানিকটা সময় আমরা বাঁচতে পারি,
কিন্তু বাতাস ছাড়া এক মুহূর্ত আমরা বাঁচতে পারি না। বাতাসের মধ্যে যে অক্সিজেন আছে, তা মানুষ এবং
উপাদান কার্বন ডাই-অক্সাইডের।
প্রাণীদের বাঁচার অপরিহার্য উপাদান। আবার উদ্ভিদকুলের জীবনধারণের জন্য প্রয়োজন বাতাসের অন্যতম
বায়ু-দূষণ ।
কীভাবে ঘটে : প্রাণীরা নিঃশ্বাসের মাধ্যমে বাতাসের
অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং প্রশ্বাসের মাধ্যমে কার্বন ডাই-অক্সাইড ত্যাগ
করে। উদ্ভিদরা সেই কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে এবং অক্সিজেন
ত্যাগ করে—এভাবে উদ্ভিদ ও প্রাণীর বিপরীতধর্মী কাজের ফলে
প্রকৃতিতে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণে একটা সমতা
বজায় থাকে। কিন্তু মানুষ নির্বিচারে বন কেটে গাছপালা ধ্বংস করে
ফেলায় বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বাড়ছে। এর ফলে
পৃথিবী আগের তুলনায় বেশি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, গরম বাড়ছে। অজস্র যানবাহন এবং কলকারখানার ধোঁয়াও
বাতাসকে দূষিত করছে।
বায়ু-দূষণের ফল : বায়ু-দূষণের প্রত্যক্ষ ফল হল তাপমাত্রা বৃদ্ধি। এর ফলে পৃথিবীর সর্বত্র গরম বেড়েছে,
আবহাওয়ার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে, আকস্মিক ঝড়-সাইক্লোন-অতি বৃষ্টি বা খরা দেখা দিচ্ছে। পাহাড়চূড়ার
বরফ গলে যাচ্ছে, এমন কী মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাওয়ায় সমুদ্রের জলতল বেড়ে গিয়ে সমুদ্রতীরবর্তী
অঞ্চলগুলি জলে ডুবে যাবার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। মানুষেরও টিবি, ক্যানসার প্রভৃতি মারণ-ব্যাধিতে আক্রান্ত
হবার সম্ভাবনা বাড়ছে।
উপসংহার : বায়ুদূষণ পৃথিবীর জীবকুলকে অনিবার্য ধ্বংসের দিকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে। এর হাত থেকে
বাঁচার একটিই উপায় : বনসৃজন বা আরও বেশি করে গাছ লাগানো।