সূচনাঃ সৌরজগতের আটটি গ্রহের মধ্যে সূর্য থেকে দূরত্ব অনুসারে মঙ্গল হল চতুর্থ গ্রহ। সূর্যের সবচেয়ে
কাছে হল বুধ, তার শুক্র, তারপর আমাদের পৃথিবী, এরপর মঙ্গলের অবস্থান।
মঙ্গলের বৈশিষ্ট্য ঃ সূর্য থেকে মঙ্গলের গড় দূরত্ব প্রায় ২২ কোটি ৬০ লক্ষ কিমি.। এর দুটি
উপগ্রহ—ফোবোস এবং ডিমোস। খালি চোখে মঙ্গলকে লাল রঙের দেখায়, তাই এর নাম ‘লাল গ্রহ'। সূর্যের
চারদিকে একবার ঘুরে আসতে মঙ্গলের সময় লাগে ৬৮৭ দিন। মঙ্গলের দুই মেরু পৃথিবীর মেরুদুটির মত
বরফে ঢাকা। মঙ্গলের মাটি গোলাপি রঙের, মাটির উপরে ছড়ানো রয়েছে ভারি ভারি পাথর।
মঙ্গলে রোবট রোভার বা স্বয়ংক্রিয় চক্রযান ঃ মঙ্গলের মাটি এবং পাথর পরীক্ষা ও বিশ্লেষণ করে
সত্যিই সেখানে জীবনের অস্বিত্ব ছিল বা আছে কিনা, তা নির্ণয়ের লক্ষ্যে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের নাসার বিজ্ঞানীরা
একটি স্বয়ংক্রিয় চক্রযান পাঠিয়েছেন মঙ্গলে। ছ চাকার, প্রায় এক টন ওজনের স্বয়ংক্রিয় ওই যানটির নাম
‘কিউরিয়োসিটি’ (কৌতূহল)। ২০১১ খ্রিঃ ২৬ নভেম্বর আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার উপকণ্ঠে ক্যানাভেরাল
অন্তরীপ থেকে এটিকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। ২৫৪ দিন পরে, ২০১২ খ্রিঃ ৫ আগস্ট শেষ রাতে (ভারতীয়
সময় : সোমবার, ৬ আগস্ট, বেলা ১১ টা ২ মিনিটে) ‘কিউরিয়োসিটি’ মঙ্গলের ‘গেল ক্রেটার' নামক ৫৭৬
কিমি. চওড়া একটি বিরাট গহ্বরে সফলভাবে অবতরণ করে তার নির্দিষ্ট কাজ শুরু করে দেয়। এত ভারি একটা
যানকে মঙ্গলের বুকে নামানো ছিল একট রাট সমস্যা। নীরা সেই সমস্যাকে অতিক্রম করেন ৫১ ফুট
চওড়া একটি প্যারাসুটের সাহায্যে প্রথমে এর গতিবেগকে কমিয়ে, তারপর ক্লেন ও দড়ির সাহায্যে ৭ মিনিট
ধরে ধীরে ধীরে মঙ্গলের মাটিতে যানটিকে নামিয়ে দিয়ে। সঙ্গে সঙ্গেই যন্ত্রযান পৃথিবীতে বিজ্ঞানীদের জানিয়ে
দেয়, সে সফলভাবে মঙ্গলে অবতরণ করেছে। যন্ত্রযানটি ৯৮ সপ্তাহ মঙ্গলে থেকে নিজের কাজ করে এবং
মঙ্গল সম্বন্ধে পৃথিবীতে নানা তথ্য জানায়।
উপসংহার : বিরাট যন্ত্রযানটির মঙ্গলে অবতরণ বিজ্ঞানের জয়যাত্রার একটি অত্যাশ্চর্য নিদর্শন। বিজ্ঞানীরা মঙ্গলে রোবঢ়-যান