সূচনা : ‘বেতার’ শব্দটির অর্থ : বিনা তার বা তারহীন অবস্থা। কোনো
তারের সাহায্য না নিয়ে এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায় কন্ঠস্বর বা শব্দ
পাঠানোর ব্যবস্থাকে বলা হয় বেতার ব্যবস্থা। বেতার ব্যবস্থা আধুনিক বিজ্ঞানের
একটি উল্লেখযোগ্য আবিষ্কার।
আবিষ্কার ও উপযোগিতা : বিনা তারে সংবাদ প্রেরণের যন্ত্র আবিষ্কার
করার কৃতিত্ব আমাদের দেশের বিখ্যাত বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসুর। প্রায়
সমসাময়িক সময়ে ইতালীয় বিজ্ঞানী মার্কনিও এই যন্ত্র আবিষ্কার করেন, ফলে অন্যতম আবিষ্কারক হিসেবে তাঁর নামটিও এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে। বেতার যন্ত্র আবিষ্কারের ফলে যে কোনো
শব্দ ও সংকেতকে বহু দূরে পাঠানো সম্ভব হয়েছে। ফলে এই যন্ত্রকে কাজে লাগিয়ে গান, বাজনা, খবর, নাটকের
সংলাপ প্রভৃতি সম্প্রচার করা সম্ভব হয়েছে। তাই রেডিয়ো হয়ে উঠেছে বিনোদনের একটি মাধ্যম। বেতার যন্ত্র
আকারে ক্রমশ ছোটো এবং বহনযোগ্য হওয়ায় এর জনপ্রিয়তাও খুব বেড়েছে। এই জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে
বর্তমানে রেডিয়োকে শিক্ষাবিস্তার এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানোর কাজেও ব্যবহার করা হচ্ছে।
উপসংহার : টেলিভিশন বা দূরদর্শনের ব্যাপক জনপ্রিয়তার ফলে রেডিয়ো তার জনপ্রিয়তা হারাচ্ছিল।
এফ.এম. চ্যানেলগুলি আসার পরে রেডিয়ো আবার তার হারানো মর্যাদা অনেকটা ফিরে পেয়েছে। তবে শুধু
গান-বাজনার মধ্যে এর জনপ্রিয়তাকে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষা বিস্তার এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা বিস্তারের কাজেও
এর বহুল ব্যবহার হওয়া উচিত।