সূচনা : প্রকৃতির অন্যতম মূল্যবান দান হল জল। বাতাসের মতো জলও হল জীবকুলের বাঁচার একটি
অপরিহার্য উপাদান। তাই জলের অন্য নাম ‘জীবন’। বাস্তবিক, পৃথিবীতে সমস্ত জীবনের উৎস হল জল।
প্রাপ্তিস্থান ও বৈশিষ্ট্য : পৃথিবীতে জলের অভাব নেই, কারণ পৃথিবীর
চার ভাগের প্রায় তিন ভাগই জল। পুকুর-কুয়ো-খাল-বিল থেকে শুরু করে
নদী-সাগর—সর্বত্রই জল দেখা যায়। কিন্তু মুশকিল একটাই—এই বিপুল
জলভাণ্ডারের মাত্র ১ শতাংশ হল পানীয়, তাই পৃথিবীতে পানীয় জলের খুব
অভাব। পান করা ছাড়াও দৈনন্দিন নানা কাজে—যেমন, রান্না করা, স্নান করা,
জামাকাপড় ধোওয়া, ঘরদোর পরিষ্কার করা প্রভৃতি কাজেও প্রত্যেকেরই
প্রতিদিন প্রচুর জলের দরকার পড়ে। জল ছাড়া কৃষিকাজও হয় না, উদ্ভিদের
বৃদ্ধি ও পুষ্টির জন্যও জল প্রয়োজন।
জল সম্বন্ধে সতকর্তা : যে জল আমরা পান করি, তা অবশ্যই পরিষ্কার, বর্ণহীন, গন্ধহীন ও জীবাণুমুক্ত
হওয়া প্রয়োজন। কলেরা, টাইফয়েড, জন্ডিস এবং আরও অনেক সংক্রামক রোগ জলের মাধ্যমেই ছড়িয়ে পড়ে।
তাই জলের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে সতর্ক না হলে রোগাক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
উপসংহার : বিশুদ্ধ ও পরিশ্রুত পানীয় জল আজকাল শহর ও শহরতলি অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে
পাইপ লাইনের মাধ্যমে। সাধারণ মানুষকে জলবাহিত রোগের আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য এই ব্যবস্থাকে
গ্রামাঞ্চলেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। দেশের মানুষ যত সুস্থ, সবল ও রোগমুক্ত থাকবেন, দেশ
ততই উন্নতির পথে এগিয়ে যাবে।