আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু - বাংলা রচনা | Bengali Essay on Acharya Jagdishchandra Bose | Bangla Paragraph Writing for Class 1-2-3-4-5-6

সূচনা : আপাতদৃষ্টিতে যে গাছকে নিষ্প্রাণ জড় পদার্থ বলে মনে হয়, তারও প্রাণ আছে এবং প্রাণীদের মতো তারাও বিভিন্ন অনুভূতিতে সাড়া দেয়, এ কথা প্রথম বলে সারা পৃথিবীকে চমকে দিয়েছিলেন এক বাঙালি বিজ্ঞানী। এই বরেণ্য বিজ্ঞানীর নাম জগদীশচন্দ্র বসু। রেডিয়ো বা বেতার যন্ত্রেরও আবিষ্কর্তা তিনি। 

পরিচয় : ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশের ঢাকা জেলার রাঢ়িখাল গ্রামে জগদীশচন্দ্র জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ভগবানচন্দ্র বসু ছিলেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। কৃতী ছাত্র জগদীশচন্দ্র বি.এ. পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবার পর লন্ডনে পড়তে যান। সেখান থেকে উচ্চ ডিগ্রি নিয়ে দেশে ফিরে এসে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে অধ্যাপনা শুরু করেন। পড়ানোর পাশাপাশি তিনি বৈজ্ঞানিক গবেষণাও চালিয়ে যেতে থাকেন। প্রকৃতপক্ষে গবেষক হিসেবেই তাঁর পৃথিবীজোড়া খ্যাতি। বেতার যন্ত্র আবিষ্কার এবং উদ্ভিদের প্রাণ আছে, এই সত্য আবিষ্কার তাঁর অসামান্য কীর্তি। সারা জীবনই তিনি গবেষণা নিয়ে ব্যস্ত থেকেছেন। বৃদ্ধ বয়সে অতিরিক্ত পরিশ্রমে তাঁর স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ে। ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে গিরিডিতে তিনি পরলোকগমন করেন। 

উপসংহারঃ আজ ভারত বৈজ্ঞানিক গবেষণায় অনেক এগিয়ে গেছে, এর মূলে রয়েছে জগদীশচন্দ্রের প্রচেষ্টা। তিনিই নিজের জমানো সমস্ত অর্থ ব্যয় করে ‘বসু বিজ্ঞান মন্দির' নামে ভারতের প্রথম গবেষণাগারটি তৈরি করেন এদেশে বিজ্ঞানচর্চা ছড়িয়ে দেবার জন্য।