সূচনা : সত্যবাদিতার অর্থ, সত্য কথা বলা। যে সত্য কথা বলে, তাকে আমরা বলি সত্যবাদী। পৃথিবীতে
সত্য এবং সত্যবাদী দুয়েরই মর্যাদা অসামান্য।
সত্যবাদিতা বড়ো গুণ : পৃথিবীতে যত বড়ো বড়ো মহাপুরুষ জন্মেছেন,
তাঁদের সকলেরই জীবনী পড়লে দেখা যায়, তাঁরা সর্বদাই মিথ্যা এবং অন্যায়কে
পরিহার করেছেন। সত্যকে আঁকড়ে থেকে তাঁদের অনেক সময় ক্ষতিগ্রস্ত হতে
হয়েছে। সেই ক্ষতি তাঁরা হাসিমুখে স্বীকার করেছেন, তবু মিথ্যার আশ্রয় নেননি।
মহাভারতে সত্যবাদী যুধিষ্ঠিরের কথা আমরা পড়েছি—সত্যকে রক্ষা করতে গিয়ে
কতবার কত বিপদের মধ্যে তাঁকে পড়তে হয়েছে। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী যাঁকে বলা
হয়, বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক সেই গৌতম বুদ্ধ জীবনে সর্বদা সত্য অনুসরণের
উপদেশ দিয়েছেন। কেবল বৌদ্ধধর্ম কেন, পৃথিবীর সব ধর্মই সত্যের জয়গান
গেয়েছে। সব মহাপুরুষই বলেছেন, মিথ্যার অনেক রূপ, কিন্তু সত্যের রূপ একটাই—তাই জীবনের প্রতিটি
পদক্ষেপে সত্যকে অনুসরণ করতে হবে। মিথ্যার জয় সাময়িক, কিন্তু সত্য চিরকালীন বলে শেষ পর্যন্ত তারই
জয় হবে। আমাদের দেশের মহাত্মা গান্ধি সারা জীবন সত্যবাদিতা এবং সত্যনিষ্ঠাকে আদর্শ করে জীবনের পথ
চলেছেন। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি সত্য ও ন্যায়ের পরীক্ষায় সসম্মানে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
উপসংহার : শৈশবাবস্থা এবং ছাত্র জীবনই হল সত্যবাদিতা শিক্ষার সবচেয়ে ভালো সময়। এই বয়সে
যদি আমরা সত্যবাদিতাকে আদর্শ করে জীবনের পথ চলতে শিখি, তাহলে আমাদের পরবর্তী জীবন সুন্দর ও
মহান হবে।