সূচনা : ইঞ্জিনবসানো দ্রুতগামী গাড়ি যতদিন রাস্তায় না নেমেছে, ততদিন পর্যন্ত মানুষের পরম বিশ্বস্ত বাহন ছিল ঘোড়া। ঘোড়ার পিঠে চেপে সে খুব তাড়াতাড়ি, বিনা পরিশ্রমে অনেক দূর পথ অতিক্রম করেছে।
আকৃতি : ঘোড়া হল গৃহপালিত স্তন্যপায়ী চতুষ্পদ প্রাণী। লম্বাটে মুখের এই প্রাণীটির দুটি কান, দুটি চোখ ও একটি গোছা চুলবিশিষ্ট লেজ আছে। এদের ঘাড়ের উপর থাকে কয়েক গোছা লোম, পায়ের নীচে থাকে শক্ত খুর।
প্রকৃতি ও উপকারিতা : ঘোড়া নিরীহ, অত্যন্ত সাহসী, পরিশ্রমী এবং প্রভুভক্ত প্রাণী। মনিবের কোনো বিপদ দেখলে নিজের জীবন দিয়েও প্রভুর প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করে। মেবারের রানা প্রতাপসিংহের ঘোড়া চৈতক হলদিঘাটের যুদ্ধে কীভাবে বিপন্ন মনিবের প্রাণ বাঁচিয়েছিল, ইতিহাস বইয়ে তা লেখা আছে। ঘোড়া অত্যন্ত দ্রুতগামী বলে ঘোড়ার পিঠে চাপিয়ে এবং ঘোড়াকে দিয়ে গাড়ি টানিয়ে মানুষ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় গেছে। ঘোড়া মাল বহনে পটু, পিঠে মাল নিয়ে পাহাড়েও উঠতে পারে। এখনও পাহাড়ি অঞ্চলে ঘোড়ার খুব আদর। আগে সংবাদ আদানপ্রদান এবং চিঠিপত্র পাঠানোর কাজেও ঘোড়াকে ব্যবহার করা হত।
উপসংহার : তিন চাকা এবং চার চাকার দ্রুতগামী ইঞ্জিনবসানো গাড়ি আবিষ্কারের ফলে মানুষের কাছে
এখন ঘোড়ার আদর অনেক কমেছে। কিন্তু ঘোড়া এখনও আমাদের প্রিয় পশু। অতি দ্রুতগামী এই পশুটি আমাদের সত্যিকারের বন্ধু।